রাজনীতি থেকে অবসর নিলেন মোকতাদা আল-সদর

রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা মোকতাদা আল-সদর। রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সোমবার (২৯ আগস্ট) তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজনীতি থেকে অবসর নিলেন মোকতাদা আল-সদর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২ মিনিটে পড়ুন

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এ ঘোষণায় অস্থিতিশীলতা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। টুইটারে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে মোকতাদা আল-সদর বলেন, আমি রাজনীতি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।

সংস্কারে তার দেয়া পরামর্শ অনুসরণ করতে ব্যর্থ হওয়া দেশটির শিয়া রাজনীতিবিদদের সমালোচনাও করেন তিনি। তবে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয় বন্ধ করা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি মোকতাদা আল-সদর। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে। সেগুলো বন্ধ হবে না।

এরআগেও রাজনীতি কিংবা সরকার থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি তার অনুগত আধাসামরিক বাহিনী ভেঙে দিয়েছিলেন সদর। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোতে তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এমনকি কয়েক হাজার সেনার একটি আধাসামরিক বাহিনী রয়েছে, যারা তার অনুগত থেকে কাজ করছে।

অর্থাৎ ঘোষণা দিয়েও রাজনীতিতে ফিরে আসার নজির আছে তার। কিন্তু অতীতের অচলাবস্থার চেয়ে বর্তমান সংকট সমাধানের অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইরাকে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে মোকতাদা আল-সদরের দল

শিয়া নেতাদের সঙ্গে বর্তমানে মোকতাদা আল-সদরের যে অচলাবস্থা চলছে, তাতে দীর্ঘ সময় ধরে ইরাকে কোনো সরকার গঠন সম্ভব হয়নি। গেল অক্টোবরের নির্বাচনে প্রথম তার দল অংশ নেয়। কিন্তু তার পছন্দমতো সরকার গঠন করতে না পারায় পার্লামেন্ট থেকে দলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

ইরানঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী শিয়া নেতাদের সরকার থেকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। এ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

এমনকি নতুন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে বাধা দিতে পার্লামেন্ট ভবন দখল করে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে তার সমর্থকদের। এখন আগাম নির্বাচন ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার দাবি করছেন তিনি।

তার দাবি, ২০০৩ সালে মার্কিন দখলদারিত্বের পর থেকে যেসব রাজনীতিবিদ ক্ষমতায় ছিলেন, তারা আর কোনো সরকারি পদে বসতে পারবেন না। সরকারি পদের তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে ইরাকের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন মোকতাদা আল-সদরের ঘনিষ্ঠ মুস্তফা আল-কাজেমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.